কে তোমারে দিল প্রাণ

রে পাষাণ।

কে তোমারে জোগাইছে এ অমৃতরস

বরষ বরষ।

তাই দেবলোকপানে নিত্য তুমি রাখিয়াছ ধরি

ধরণীর আনন্দমঞ্জরী;

তাই তো তোমারে ঘিরি বহে বারোমাস

অবসন্ন বসন্তের বিদায়ের বিষণ্ন নিশ্বাস;

মিলনরজনীপ্রান্তে ক্লান্ত চোখে

ম্লান দীপালোকে

ফুরায়ে গিয়াছে যত অশ্রু-গলা গান

তোমার অন্তরে তারা আজিও জাগিছে অফুরান,

হে পাষাণ, অমর পাষাণ।

বিদীর্ণ হৃদয় হতে বাহিরে আনিল বহি

সে রাজবিরহী

বিরহের রত্নখানি;

দিল আনি

বিশ্বলোক-হাতে

সবার সাক্ষাতে।

নাই সেথা সম্রাটের প্রহরী সৈনিক,

ঘিরিয়া ধরেছে তারে দশ দিক।

আকাশ তাহার 'পরে

যত্নভরে

রেখে দেয় নীরব চুম্বন

চিরন্তন;

প্রথম মিলনপ্রভা

রক্তশোভা

দেয় তারে প্রভাত-অরুণ,

বিরহের ম্লানহাসে

পাণ্ডুভাসে

জ্যোৎস্না তারে করিছে করুণ।

সম্রাটমহিষী,

তোমার প্রেমের স্মৃতি সৌন্দর্যে হয়েছে মহীয়সী।

সে-স্মৃতি তোমারে ছেড়ে

গেছে বেড়ে

সর্বলোকে

জীবনের অক্ষয় আলোকে।

অঙ্গ ধরি সে অনঙ্গস্মৃতি

বিশ্বের প্রীতির মাঝে মিলাইছে সম্রাটের প্রীতি।

রাজ-অন্তঃপুর হতে আনিল বাহিরে

গৌরবমুকুট তব, পরাইল সকলের শিরে

যেথা যার রয়েছে প্রেয়সী

রাজার প্রাসাদ হতে দীনের কুটিরে--

তোমার প্রেমের স্মৃতি সবারে করিল মহীয়সী।

সম্রাটের মন,

সম্রাটের ধনজন

এই রাজকীর্তি হতে করিয়াছে বিদায়গ্রহণ।

আজ সর্বমানবের অনন্ত বেদনা

এ পষাণ-সুন্দরীরে

আলিঙ্গনে ঘিরে

রাত্রিদিন করিছে সাধানা।